বাংলাদেশ ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ Logo শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ Logo ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আমিরাতের Logo অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সহায়তা চেয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ বাংলাদেশ Logo মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে? Logo অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করলেন সাগর-রুনির সন্তান মেঘ Logo গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম? Logo যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত Logo নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষ Logo খানজাহান আলীর দিঘির শেষ কুমির অপসারণ, সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্যের অবসান

ফ্রিজের ঠান্ডায় হারিয়ে গেছে শুটকির রোদ, কোরবানির গোস্তে আর নেই সেই গ্রামের গন্ধ

সংগৃহীত ছবি

একটা সময় ছিল, কোরবানির ঈদ মানেই শুধু পশু কোরবানি নয়—একটি পুরো গ্রামের উৎসব। উঠোনজুড়ে ব্যস্ততা, বাঁশের চালুনিতে রাখা লালচে মাংস, হলুদ-লবণ মাখানো ঘ্রাণে ভরে থাকা দুপুর আর মায়েদের সেই চিরচেনা ডাক—“রোদ থাকতে মাংসগুলো উল্টে দে!”

সেই সময় অনেকেই হয়তো ভাবতেও পারবে না, ফ্রিজ ছাড়াই কোরবানির গোস্ত মাসের পর মাস সংরক্ষণ করা হতো। রোদে শুকিয়ে তৈরি হতো শুটকি ধরনের মাংস, যা গ্রামের মানুষের কাছে ছিল এক অনন্য স্বাদের সম্পদ। শীতের সকালে পেঁয়াজ-রসুন-শুকনা মরিচ দিয়ে রান্না করা সেই মাংসের ঘ্রাণ পুরো বাড়িকে ভরিয়ে দিত, আর অতিথি এলে তা পরিবেশন হতো গর্বের সঙ্গে। কারণ এটি শুধু খাবার ছিল না, ছিল মমতা, পরিশ্রম আর অভাবের দিনে টিকে থাকার এক লোকজ কৌশল।

তখন প্রযুক্তি ছিল না, কিন্তু ছিল অভিজ্ঞতা আর প্রকৃতির সঙ্গে গভীর বোঝাপড়া। কোরবানির পর অতিরিক্ত মাংস হলুদ, লবণ ও মশলা মাখিয়ে দিনের পর দিন রোদে শুকানো হতো। এতে মাংস যেমন নষ্ট হতো না, তেমনি স্বাদও আলাদা মাত্রা পেত। গ্রামের নারীরা জানতেন কোন রোদে কতক্ষণ রাখতে হবে, কখন উল্টাতে হবে, কীভাবে ধোঁয়া দিয়ে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে হয়। এই জ্ঞান কোনো বইয়ের ছিল না, ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা লোকজ অভিজ্ঞতার অংশ।

কিন্তু আজ আধুনিকতার নামে আমরা পুরো নির্ভরতা ফ্রিজের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। বিদ্যুতের ওঠানামা, অতিরিক্ত মাংস জমিয়ে রাখা কিংবা সঠিক তাপমাত্রা না থাকায় অনেক সময় মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঈদের কয়েক দিনের মধ্যেই ফ্রিজে জমা মাংসে দুর্গন্ধ দেখা দিচ্ছে, এমনকি পুরো সংরক্ষিত মাংস ফেলে দিতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্বাদে। ফ্রিজ মাংসকে ঠান্ডা রাখে, কিন্তু সেই রোদে শুকানো মাংসের মতো স্বাদ বা ঘ্রাণ তৈরি করতে পারে না। শুটকির ধোঁয়াটে গন্ধ, রোদের তাপে শুকানোর স্বাভাবিক স্বাদ—এসব এখন ধীরে ধীরে স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

আমরা হয়তো প্রযুক্তিতে এগিয়েছি, কিন্তু কোথাও যেন হারিয়েছি সেই সরল গ্রামীণ আয়োজন। হারিয়ে গেছে উঠোনভরা ব্যস্ততা, মায়েদের হাতের হলুদ মাখানো মাংস আর বিকেলের রোদের সঙ্গে মিশে থাকা কোরবানির স্মৃতি।

সম্ভবত এখন সময় এসেছে পুরোনো সেই জ্ঞানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করার। আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে, তবে লোকজ অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। কারণ কোরবানির গোস্ত শুধু খাবার নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং গ্রামীণ জীবনের এক টুকরো ইতিহাস।

kalprakash.com/SS
সোমবার, ১ জুন ২০২৬
ফ্রিজের ঠান্ডায় হারিয়ে গেছে শুটকির রোদ, কোরবানির গোস্তে আর নেই সেই গ্রামের গন্ধ
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ

ফ্রিজের ঠান্ডায় হারিয়ে গেছে শুটকির রোদ, কোরবানির গোস্তে আর নেই সেই গ্রামের গন্ধ

প্রকাশিত: ০৬:১২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

একটা সময় ছিল, কোরবানির ঈদ মানেই শুধু পশু কোরবানি নয়—একটি পুরো গ্রামের উৎসব। উঠোনজুড়ে ব্যস্ততা, বাঁশের চালুনিতে রাখা লালচে মাংস, হলুদ-লবণ মাখানো ঘ্রাণে ভরে থাকা দুপুর আর মায়েদের সেই চিরচেনা ডাক—“রোদ থাকতে মাংসগুলো উল্টে দে!”

সেই সময় অনেকেই হয়তো ভাবতেও পারবে না, ফ্রিজ ছাড়াই কোরবানির গোস্ত মাসের পর মাস সংরক্ষণ করা হতো। রোদে শুকিয়ে তৈরি হতো শুটকি ধরনের মাংস, যা গ্রামের মানুষের কাছে ছিল এক অনন্য স্বাদের সম্পদ। শীতের সকালে পেঁয়াজ-রসুন-শুকনা মরিচ দিয়ে রান্না করা সেই মাংসের ঘ্রাণ পুরো বাড়িকে ভরিয়ে দিত, আর অতিথি এলে তা পরিবেশন হতো গর্বের সঙ্গে। কারণ এটি শুধু খাবার ছিল না, ছিল মমতা, পরিশ্রম আর অভাবের দিনে টিকে থাকার এক লোকজ কৌশল।

তখন প্রযুক্তি ছিল না, কিন্তু ছিল অভিজ্ঞতা আর প্রকৃতির সঙ্গে গভীর বোঝাপড়া। কোরবানির পর অতিরিক্ত মাংস হলুদ, লবণ ও মশলা মাখিয়ে দিনের পর দিন রোদে শুকানো হতো। এতে মাংস যেমন নষ্ট হতো না, তেমনি স্বাদও আলাদা মাত্রা পেত। গ্রামের নারীরা জানতেন কোন রোদে কতক্ষণ রাখতে হবে, কখন উল্টাতে হবে, কীভাবে ধোঁয়া দিয়ে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে হয়। এই জ্ঞান কোনো বইয়ের ছিল না, ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা লোকজ অভিজ্ঞতার অংশ।

কিন্তু আজ আধুনিকতার নামে আমরা পুরো নির্ভরতা ফ্রিজের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। বিদ্যুতের ওঠানামা, অতিরিক্ত মাংস জমিয়ে রাখা কিংবা সঠিক তাপমাত্রা না থাকায় অনেক সময় মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঈদের কয়েক দিনের মধ্যেই ফ্রিজে জমা মাংসে দুর্গন্ধ দেখা দিচ্ছে, এমনকি পুরো সংরক্ষিত মাংস ফেলে দিতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্বাদে। ফ্রিজ মাংসকে ঠান্ডা রাখে, কিন্তু সেই রোদে শুকানো মাংসের মতো স্বাদ বা ঘ্রাণ তৈরি করতে পারে না। শুটকির ধোঁয়াটে গন্ধ, রোদের তাপে শুকানোর স্বাভাবিক স্বাদ—এসব এখন ধীরে ধীরে স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

আমরা হয়তো প্রযুক্তিতে এগিয়েছি, কিন্তু কোথাও যেন হারিয়েছি সেই সরল গ্রামীণ আয়োজন। হারিয়ে গেছে উঠোনভরা ব্যস্ততা, মায়েদের হাতের হলুদ মাখানো মাংস আর বিকেলের রোদের সঙ্গে মিশে থাকা কোরবানির স্মৃতি।

সম্ভবত এখন সময় এসেছে পুরোনো সেই জ্ঞানকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করার। আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে, তবে লোকজ অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। কারণ কোরবানির গোস্ত শুধু খাবার নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং গ্রামীণ জীবনের এক টুকরো ইতিহাস।

kalprakash.com/SS
সোমবার, ১ জুন ২০২৬
ফ্রিজের ঠান্ডায় হারিয়ে গেছে শুটকির রোদ, কোরবানির গোস্তে আর নেই সেই গ্রামের গন্ধ