ঘুমের অভাব এখন শুধু ক্লান্তির কারণ নয়, বরং এটি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার একটি বড় কারণ।
আমেরিকার এন্ডোক্রাইন সোসাইটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত কম ঘুমান বা রাত জেগে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের মান খারাপ হলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের সান ইয়াৎ-সেন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে—যেমন রাতে ঠিকভাবে ঘুম না হওয়া বা দিনে ঘুমানোর অভ্যাস—তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ ভালো ঘুম শরীরকে নিজেকে পুনরুদ্ধার করার সময় দেয় এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক ধাপ বা স্টেজ ওয়ানে থাকলে ঘুমের মান উন্নত করার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে শুধু ঘুম ঠিক করলেই পুরোপুরি সমাধান পাওয়া যায় না; এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার উন্নতিও জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং স্থূলতাকে ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ঘুমের ঘাটতিকেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। দীর্ঘদিন কম ঘুম, অনিদ্রা বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা শরীরে বিপাকীয় ভারসাম্য নষ্ট করে এবং লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।
এশিয়ান হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অমিত মিলানি বলেন, ঘুম ডায়েট ও ব্যায়ামের মতোই বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাব লিভারের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অলস জীবনযাপনের মতোই ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘুমের অনিয়ম শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে ক্ষুধা বেড়ে যায়, বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর ও মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























