বাংলাদেশ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ Logo শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ Logo ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আমিরাতের Logo অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সহায়তা চেয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ বাংলাদেশ Logo মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে? Logo অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করলেন সাগর-রুনির সন্তান মেঘ Logo গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম? Logo যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত Logo নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষ Logo খানজাহান আলীর দিঘির শেষ কুমির অপসারণ, সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্যের অবসান

অতিথি সমাদরের ইহকালীন ও পরকালীন পুরস্কার

ঈদ মুসলিম উম্মাহর আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মহোৎসব। এই সময়ে মানুষ আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, কুশল বিনিময় করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। ঈদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো মেহমানের সমাদর। ইসলামে অতিথিকে সম্মান করা শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; বরং এটি ঈমান ও উত্তম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়, অতিথিকে সম্মান করে এবং ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)। এই হাদিসে অতিথি সমাদরকে ঈমানের একটি বাস্তব শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সত্যিকারের ঈমানদার ব্যক্তি অতিথিকে সম্মান করবে এবং তার আগমনে বিরক্ত হবে না।

খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, দুর্বলদের সাহায্য করেন এবং অতিথির সেবা করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৩)। এ থেকে বোঝা যায়, অতিথি সেবা নবীজির উত্তম চরিত্রের অংশ ছিল এবং তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য গুণ।

ইসলামে অতিথি সেবার মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান করো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো, তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৮৫)। আরেক হাদিসে জান্নাতে এমন প্রাসাদের কথা বলা হয়েছে, যেখানে রয়েছে তাদের জন্য যারা মানুষকে খাদ্য দেয়, উত্তম কথা বলে, রোজা রাখে এবং রাতে ইবাদত করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৪)।

আনসারি এক দম্পতির আত্মত্যাগের ঘটনাও অতিথি সমাদরের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা নিজেরা অভাব থাকা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেহমানকে খাওয়ানোর জন্য নিজেদের খাবার ত্যাগ করেন এবং পুরো রাত অভুক্ত থাকেন। তাদের এই ত্যাগে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং কোরআনে আয়াত নাজিল করেন—তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত। (সুরা হাশর, আয়াত : ৯)।

অতএব, অতিথি সমাদর শুধু দুনিয়ার সুন্দর আচরণ নয়; বরং এটি আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

kalprakash.com/SS

সোমবার, ১ জুন ২০২৬
অতিথি সমাদরের ইহকালীন ও পরকালীন পুরস্কার
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ

অতিথি সমাদরের ইহকালীন ও পরকালীন পুরস্কার

প্রকাশিত: ০৬:০৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ঈদ মুসলিম উম্মাহর আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মহোৎসব। এই সময়ে মানুষ আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, কুশল বিনিময় করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। ঈদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো মেহমানের সমাদর। ইসলামে অতিথিকে সম্মান করা শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; বরং এটি ঈমান ও উত্তম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়, অতিথিকে সম্মান করে এবং ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)। এই হাদিসে অতিথি সমাদরকে ঈমানের একটি বাস্তব শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সত্যিকারের ঈমানদার ব্যক্তি অতিথিকে সম্মান করবে এবং তার আগমনে বিরক্ত হবে না।

খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, আল্লাহর কসম! তিনি কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, দুর্বলদের সাহায্য করেন এবং অতিথির সেবা করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৩)। এ থেকে বোঝা যায়, অতিথি সেবা নবীজির উত্তম চরিত্রের অংশ ছিল এবং তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য গুণ।

ইসলামে অতিথি সেবার মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান করো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো, তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৮৫)। আরেক হাদিসে জান্নাতে এমন প্রাসাদের কথা বলা হয়েছে, যেখানে রয়েছে তাদের জন্য যারা মানুষকে খাদ্য দেয়, উত্তম কথা বলে, রোজা রাখে এবং রাতে ইবাদত করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৪)।

আনসারি এক দম্পতির আত্মত্যাগের ঘটনাও অতিথি সমাদরের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা নিজেরা অভাব থাকা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মেহমানকে খাওয়ানোর জন্য নিজেদের খাবার ত্যাগ করেন এবং পুরো রাত অভুক্ত থাকেন। তাদের এই ত্যাগে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং কোরআনে আয়াত নাজিল করেন—তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত। (সুরা হাশর, আয়াত : ৯)।

অতএব, অতিথি সমাদর শুধু দুনিয়ার সুন্দর আচরণ নয়; বরং এটি আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

kalprakash.com/SS

সোমবার, ১ জুন ২০২৬
অতিথি সমাদরের ইহকালীন ও পরকালীন পুরস্কার