আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে রোববার লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এক ফেসবুক পোস্টে তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন।
ফিরে আসা অভিবাসীরা জানান, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যান। সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন অনেকে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শারীরিক নির্যাতন, পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং সর্বস্বান্ত হওয়ার মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তারা তুলে ধরেন।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থানের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরামর্শ দেন, যাতে অন্য কেউ অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়।
তিনি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই এবং দালালচক্র থেকে দূরে থাকা জরুরি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে আরও তিনটি ফ্লাইটে গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মোট ৫১৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে দূতাবাস।
অনলাইন ডেস্ক 























