অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু আয়মান আহমেদ ও আয়াশ আরহানকে একই কবরে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। মৃত্যুর পরেও যেন মা তার সন্তানদের বুকে আগলে রেখেছেন—এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজা ও দাফন শেষে উপস্থিতদের মনে একটাই অনুভূতি ছিল, মৃত্যু তাদের আলাদা করতে পারেনি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিডনির লাকেম্বা মসজিদে নিহত তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। জানাজার আগে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরো পরিবেশ কান্না, শোক ও নীরবতায় ভারী হয়ে ওঠে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কামরুন নাহার অস্ট্রেলিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত ছিলেন এবং সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত, পরিশ্রমী ও সন্তানদের প্রতি নিবেদিত একজন মা। তার বড় ছেলে আয়মান একটি পারফর্মিং আর্টস স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল এবং জানাজায় তার সহপাঠীরাও উপস্থিত ছিল। ছোট সন্তান আয়াশের জন্যও অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দাফনের সময় পাশাপাশি তিনটি কফিন রাখা হলে অনেকেই শোক সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও শোকাহত অবস্থায় উপস্থিত হন। বোন ও দুই ভাগ্নেকে শেষ বিদায় জানাতে বাংলাদেশ থেকে সিডনিতে আসেন কামরুন নাহারের ভাই। পুরো পরিবার ও উপস্থিত মানুষের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে ক্যাম্পবেলটাউনের একটি বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সী কামরুন নাহার এবং তার দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ শমন আহামেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























