যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামনে দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছেন, যেগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই দুই শর্তের কোনোটি মানতে রাজি হয়নি। ফলে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না—এ বিষয়ে তাদের লিখিত সম্মতি দিতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের শুল্ক বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় থাকা উচিত। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে প্রণালী নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানায় তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে সমঝোতায় আসে, তাহলে ওয়াশিংটনও ধীরে ধীরে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও ইরান ইস্যুতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে, তবে শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, বর্তমানে আলোচনার পরিধি সীমিত এবং এতে পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: রয়টার্স
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















