রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটির সঙ্গে বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকে এক নারীকে আটক করা হয়। তবে তার স্বামী জাকির হোসেন সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী স্বপ্না পুলিশের কাছে জানান, শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়। পরে জাকির পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন, যেখানে রামিসার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে।
পুলিশের ধারণা, ঘটনা টের পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে হত্যা করা হয় এবং দ্রুত মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়। নৃশংস এই ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অনলাইন ডেস্ক 
























