সাধারণভাবে আমরা রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি। কিন্তু অনেক সময় ল্যাব রিপোর্টে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম দেখা যেতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাইপোকোলেস্টেরোলেমিয়া বলা হয়।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কম কোলেস্টেরল ক্ষতিকর নয়, বরং বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কম থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে অস্বাভাবিকভাবে হঠাৎ কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হাইপোকোলেস্টেরোলেমিয়া কী
রক্ত পরীক্ষায় মোট কোলেস্টেরল বা এলডিএল যদি স্বাভাবিকের নিচে নেমে যায়, তখন তাকে হাইপোকোলেস্টেরোলেমিয়া বলা হয়। এটি কোনো আলাদা রোগ নয়, বরং শরীরের একটি অবস্থা, যা বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে।
কম কোলেস্টেরল কি সবসময় ভালো
ভালো কোলেস্টেরল (HDL) শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, তাই এটি অতিরিক্ত কমে যাওয়া ভালো নয়। অন্যদিকে খারাপ কোলেস্টেরল কম থাকা সাধারণত হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। তবে চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের কারণে কমে গেলে সেটি স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।
কোলেস্টেরল কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ
কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে কোলেস্টেরল কমে যেতে পারে, যেমন—
- লিভার বা থাইরয়েডের সমস্যা (বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম)
- অপুষ্টি বা পুষ্টি শোষণে সমস্যা
- দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা প্রদাহজনিত রোগ
- কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের প্রভাব
কখন সতর্ক হবেন
অনেক সময় কম কোলেস্টেরলের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- অকারণে ওজন কমে যাওয়া
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
- হজমে সমস্যা
- হঠাৎ ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল অনেক কমে যাওয়া
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোলেস্টেরল কম থাকা সবসময় চিন্তার বিষয় নয়। তবে এটি যদি অস্বাভাবিকভাবে বা কোনো কারণ ছাড়াই কমে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক 

























