বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে হান্টাভাইরাস। প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে ২৮ দেশের ১৪৯ জন যাত্রী নিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াস। জাহাজটিতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। যাত্রার কয়েকদিন পরই সেখানে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১১ এপ্রিল, যখন ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ যাত্রী মারা যান। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় জাহাজটি থামার পর তার স্ত্রীও আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের জন্ম দেয়।
গবেষকদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর মলমূত্র বা লালার কণা নিশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ভাইরাসের ৩৮ ধরনের মধ্যে ২৪টি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখনো এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।
সংক্রমণের এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। শুরুতে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের মতো এটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না এবং এ ধরনের সরাসরি সংক্রমণের পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম হান্টাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে এ বিষয়ে নজরদারি শুরু হয়। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এর সংক্রমণ দেখা গেলেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























