খেজুর পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক একটি ফল। শরীরচর্চা, ভ্রমণ বা দীর্ঘ সময় পরিশ্রমের পর দ্রুত শক্তি ফেরাতে এটি বেশ উপকারী। অনেক চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার পরামর্শ দেন।
তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়া নিয়ে প্রায়ই দুশ্চিন্তা থাকে। কারণ এতে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক নিয়ম মেনে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেজুর খেতে পারেন। এক্ষেত্রে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং খাওয়ার ধরন ও সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে মূলত এর সঙ্গে কোন খাবার খাওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে।
বাদামের সঙ্গে খেজুর
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরের সঙ্গে বাদাম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কমে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম বা আখরোটে থাকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খেজুরের শর্করাকে ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। এতে রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
ব্যায়ামের সময় খেজুর
শরীরচর্চার আগে বা পরে খেজুর খাওয়া উপকারী হতে পারে। ব্যায়ামের সময় শরীর দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে, ফলে খেজুরের প্রাকৃতিক শর্করা শক্তি জোগালেও রক্তে অতিরিক্ত সুগার জমে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ফাইবারযুক্ত খাবারের সঙ্গে
খেজুরের সঙ্গে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন চিয়া পুডিং, গ্রিক ইয়োগার্ট, শসা বা গাজরের সালাদ খেলে হজম ধীরগতিতে হয়। এতে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং সুগার লেভেল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ডায়াবেটিস থাকলেও খেজুর সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে সঠিক পরিমাণ ও সঠিক খাবারের সঙ্গে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
অনলাইন ডেস্ক 

























