গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা এয়ার কন্ডিশনার এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অফিস, বাসা কিংবা গাড়ি—সব জায়গাতেই এসি ব্যবহার বাড়ছে। আরামদায়ক এই প্রযুক্তি যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি দীর্ঘ সময় ব্যবহারে শরীরের ওপর কিছু স্বাস্থ্যগত প্রভাবও ফেলতে পারে।
এসি ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে বাতাস ঠাণ্ডা করে, যার ফলে ত্বক ও শরীর শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকলে নাকের ভেতর জ্বালা, শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অপরিষ্কার এসির ফিল্টার বা সিস্টেমে ধুলা ও জীবাণু জমে অ্যালার্জি, মাথাব্যথা এবং চোখে জ্বালা বা শুষ্কতার মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে। এছাড়া কম বায়ু চলাচলযুক্ত এসি কক্ষে দীর্ঘ সময় থাকলে সিক বিল্ডিং সিনড্রোমের মতো সমস্যার ঝুঁকি দেখা দেয়, যেখানে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমিভাব ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন এসিতে থাকার ফলে শরীর গরম ও আর্দ্র পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে পুরোনো এসি ইউনিট থেকে নির্গত কিছু গ্যাস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও বর্তমানে এসবের ব্যবহার অনেক জায়গায় কমে এসেছে।
তবে এসির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠাণ্ডা পরিবেশ ভালো ঘুমে সহায়তা করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। তীব্র গরমে এসি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হিটস্ট্রোক ও হিট এক্সহসশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঠাণ্ডা পরিবেশে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যা পড়াশোনা ও কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক। কিছু গবেষণায় এটিও বলা হয়েছে যে ঠাণ্ডা পরিবেশ শরীরের বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এসির স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, দীর্ঘ সময় একটানা এসিতে না থাকা এবং মাঝে মাঝে তাজা বাতাসে থাকা জরুরি। সঠিক ব্যবহার ও যত্ন নিলে এসি যেমন আরামদায়ক, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনলাইন ডেস্ক 

























