রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ক্রসিংগুলোতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা। ইতোমধ্যে রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও অন্তত ৩০টি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহেই এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তিন শতাধিক ট্রাফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে সংযুক্ত রাখা এবং আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর কাওরান বাজার মোড়ে স্থাপিত এআই ক্যামেরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, সিগন্যাল অমান্য কিংবা গাড়ির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করতে পারছে এই প্রযুক্তি।
ডিএমপির তথ্যমতে, এসব স্মার্ট ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিং দখল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ অন্তত ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করতে সক্ষম। পাশাপাশি বিআরটিএর ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রও যাচাই করা যাবে।
আইন ভঙ্গের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হবে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইলে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির মুখপাত্র এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ধাপে ধাপে এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে গুলশান, বিজয় স্মরণীসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল ও এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির শাহবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে ট্রাফিক পুলিশের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। শুরুতে মানুষের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও ধীরে ধীরে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, এআইভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা এখন পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এর কার্যকারিতা আরও বাড়বে এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তবে ডিএমপির দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং জনসচেতনতা তৈরি এবং সড়কে নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক করবে বলেও আশা করছে সংস্থাটি।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 

























