ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় এ বছরও এইচএসসির ফলাফলে পিছিয়ে পড়েছে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে যশোর বোর্ডের অবস্থান অষ্টম।
এ বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে বোর্ডটিতে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২১ হাজার ৫০২ জন ছাত্র এবং ২৯ হাজার ১৬৬ জন ছাত্রী। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। পরীক্ষায় বহিষ্কৃত হয়েছেন ৪৩ জন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫৬ হাজার ৫০৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ২৪ হাজার ৯০১ জন ছাত্র এবং ৩১ হাজার ৬০৮ জন ছাত্রী ছিলেন। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন এবং বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ২৬ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ১৬৭ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৮ জন।
মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ হাজার ১৯১ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৩১০ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৫ জন।
ফলাফলের বিষয়ে বোর্ড সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, এ বছর ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। এসব বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা ইংরেজি ক্লাস নেন। পাশাপাশি আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকেরও সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে পারেনি। এসব বিষয়ও সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামীতে বোর্ডের ফলাফল উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকি জরুরি।