বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিন লাখেরও বেশি মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন সাধারণ মানুষের জন্য প্রতারণার ফাঁদ হয়ে উঠছে। স্বাভাবিক সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের অভিযোগের যেন শেষ নেই। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগীকে নাজেহাল ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
প্রতিদিন ৭-৮ জন চিকিৎসকের নিয়মিত সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত থাকেন দুই-তিনজন, তা-ও নিয়মিত নয়। যাঁরা আসেন, তাঁরাও শৃঙ্খলা মেনে চলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুইটা পর্যন্ত রোগী দেখার কথা থাকলেও বাস্তবে ১০টা-১১টার আগে কেউ চেম্বারে আসেন না, আবার সাড়ে ১২টা-১টার আগেই চলে যান। তাঁরা সরাসরি কাউকে ব্যবস্থাপত্র দেন না। সামান্য জ্বরে আক্রান্ত রোগীকেও চার-পাঁচটি পরীক্ষার রিপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে প্রাথমিক কাজ শেষ করেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ক্লিনিক অনুমোদন দেওয়ার বিধান নেই। অথচ রহস্যজনকভাবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ গেটের সামনেই গড়ে উঠেছে একাধিক দৃষ্টিনন্দন ক্লিনিক। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, এসব ক্লিনিকের চড়া দামের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাঁরা জানান, এসব ক্লিনিকের রিপোর্ট অন্য কোথাও কাজে লাগে না। এমনকি আয়া ও বুয়ারা বোরকার আড়ালে রিপোর্ট তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেসব ভুলভাল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অত্যাধুনিক ল্যাব ও আধুনিক যন্ত্রপাতি মজুত থাকার পরও অজানা কারণে চার মাস ধরে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ানরা নিয়মিত সরকারি সুবিধা ভোগ করলেও এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরকারি টেকনিশিয়ান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্লিনিকগুলোতে রিপোর্ট তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন।
কিছুদিন আগে ফার্মাসিস্ট মামুন বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধসহ হাতেনাতে ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চার-পাঁচ বছর ধরে নতুন কেনা এক্স-রে মেশিন ছয় মাস না যেতেই বিকল হয়ে গেছে। এভাবে প্রতিটি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের নিয়েও রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ।
kalprakash.com/IM