মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ৮:১৩:০২
শিরোনাম
● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● লিংকডইনে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ● আজ নীল-সাদা জার্সিতে শেষবার মাঠে নামছেন মেসি ● ভিসাপ্রার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের জরুরি বার্তা ● সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ● ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

ছয় বছর ধরে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৬
শেয়ার: mail
ছয় বছর ধরে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ছয় বছর ধরে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। হাসপাতালটিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞের অনুমোদিত পদ দুটি, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুটি পদই শূন্য। ফলে চোখের রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পেতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে কিংবা জেলার বাইরে যেতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াতের খরচ বাড়ছে।

বাগেরহাট জেলার নয়টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী হাসপাতালে আসেন। তাঁদের একটি অংশ চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দুটি অনুমোদিত পদই প্রায় ছয় বছর ধরে শূন্য। ফলে চোখের জটিলতা নির্ণয়, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও অস্ত্রোপচারসহ বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হলে অনেকেই বাগেরহাট শহরের বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাচ্ছেন। অস্ত্রোপচার কিংবা উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে কেউ কেউ খুলনা ও গোপালগঞ্জে যাচ্ছেন।

কচুয়া থেকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পারমিতা মিত্র বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকলে এখানেই চিকিৎসা নিতে পারতাম। এখন বাইরে যেতে হচ্ছে, খরচও বাড়ছে।’

রোগীর স্বজন সূর্য বলেন, ‘জেলা হাসপাতালেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ থাকা দরকার। তাহলে চোখের সমস্যা নিয়ে রোগীদের বাইরে ছুটতে হতো না।’

রামপাল থেকে আসা এক রোগী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।’

শুধু চক্ষু বিভাগ নয়, চিকিৎসক সংকট পুরো হাসপাতালে

চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংকটের পাশাপাশি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালজুড়ে চিকিৎসক ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৮৬টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ জন। অর্থাৎ ৫৪টি চিকিৎসক পদ বর্তমানে শূন্য।

অন্যদিকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে অনেক সময় ৫০০ থেকে ৫৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নার্স ও অন্যান্য কর্মীরও ঘাটতি রয়েছে। ফলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের চাপ বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে সরকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিভিন্ন আউটসোর্সিং পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। এর আওতায় গ্যালন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তবে হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ২৮ জন কর্মী দরকার বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অবকাঠামো বাড়লেও কাটেনি জনবল সংকট

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়। অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের সময় জনবল সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞের দুটি অনুমোদিত পদই শূন্য। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

চিকিৎসক ও জনবল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালে অনেক সময় ৫০০ থেকে ৫৫০ রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে। অনুমোদিত ৮৬টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ছয় বছর ধরে চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে

বিস্তারিত কমেন্টে