সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | সকাল ৬:৫৯:৩৩
শিরোনাম
● পাবনায় ৩৮১ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, জরিমানা ৮০ হাজার ● রাবিতে সাপে কাটা শিক্ষার্থী আইসিইউতে, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি ● হরমুজ সংকটে কাস্পিয়ান সাগরই এখন ইরানের ভরসা ● কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ ● দিল্লির ছায়া থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি ● মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই মন ভালো হবে যেভাবে ● ডিম কেনার আগে যা জানা জরুরি ● হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ডুবো ড্রোন আটকের দাবি ইরানের ● যাদের কলা খাওয়া উচিত নয় ● ব্রিটেনে মার্কিন ঘাঁটির এলাকা খালি করল কতৃপক্ষ, আটক কয়েকজন ● পাবনায় ৩৮১ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, জরিমানা ৮০ হাজার ● রাবিতে সাপে কাটা শিক্ষার্থী আইসিইউতে, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি ● হরমুজ সংকটে কাস্পিয়ান সাগরই এখন ইরানের ভরসা ● কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ ● দিল্লির ছায়া থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি ● মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই মন ভালো হবে যেভাবে ● ডিম কেনার আগে যা জানা জরুরি ● হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ডুবো ড্রোন আটকের দাবি ইরানের ● যাদের কলা খাওয়া উচিত নয় ● ব্রিটেনে মার্কিন ঘাঁটির এলাকা খালি করল কতৃপক্ষ, আটক কয়েকজন

বাগাতিপাড়া হাসপাতালে দেড় মাস বন্ধ এক্স-রে সেবা

মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৬
শেয়ার: mail
বাগাতিপাড়া হাসপাতালে দেড় মাস বন্ধ এক্স-রে সেবা

মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল ও ব্যবস্থাপনায় চলছে সেবা কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা। ফলে চিকিৎসার জন্য সরকারি এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে চিকিৎসা সেবার এমন নাজুক চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফিল্ম সংকটের কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। এতে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্যাথলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের অভাব এবং জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় তীব্র গরমে ভর্তি রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সরেজমিনে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষে তালা ঝুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে এক্স-রে ফিল্মের বরাদ্দ না থাকায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করাতে আসা রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যত্র যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে নানা সংকট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মী জানান, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্যাথলজিতে মাত্র দুজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীদের রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রিপোর্ট প্রস্তুত করার সব কাজ দুজনকেই করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কেমিক্যালেরও সংকট রয়েছে।

হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বাম পাশে ইটের দেয়াল ঘেঁষে টয়লেটের নোংরা পানি রাস্তায় জমে আছে। এতে ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না।

নতুন ভবনের সিঁড়ির নিচে দেখা মেলে একটি নতুন জেনারেটরের। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষামূলকভাবে একদিন জেনারেটরটি চালু করা হয়েছিল। এরপর জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভর্তি রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে হাসপাতালের পশ্চিম পাশের গ্যারেজে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকট দীর্ঘদিনের। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক রাকিব একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও চালাচ্ছেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া ও তাৎক্ষণিকভাবে রোগী পরিবহন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি লালপুর, আড়ানীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের শেষ ভরসা এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধার সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম। চিকিৎসক তাকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের প্যাথলজিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এতে হতাশ হয়ে তাকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হয়। তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের মতো সাধারণ একটি পরীক্ষাও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা যায় না, বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের বারবার যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন উপজেলার গালিমপুর গ্রামের তোসাদ্দেক সরকার জানান, চিকিৎসক রোগীকে এক্স-রে করিয়ে আনতে বলার পর তিনি জানতে পারেন হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে হয়। রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে ফিরতে ফিরতে দুপুর পার হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ততক্ষণে চলে যাওয়ায় রোগীকে নিয়ে পরদিন আবার আসতে হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব সংকটের বিষয়ে জানতে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে। তিনি জানান, এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়, এ কারণে অর্থবছরের শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বাগাতিপাড়া হাসপাতালে দেড় মাস বন্ধ এক্স-রে সেবা

বিস্তারিত কমেন্টে