পাবনার চাটমোহরে তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের শিকার দিনমজুর আব্দুল বারেক ওরফে বাকি (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রামের একাধিক নিরীহ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় তাদের কেউ এলাকায় ছিলেন না, আবার কেউ মাঠে কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। এমনকি মামলার বাদী নিজে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন এবং ঘটনার দিন গ্রামে উপস্থিত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও পূর্বশত্রুতা ও হয়রানির উদ্দেশ্যে গ্রামের নিরপরাধ মানুষকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার দুপুরে চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের সজনাই গ্রামে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপে এসব তথ্য জানা যায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট সজনাই গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে আব্দুল বারেক ওরফে বাকি একটি পুকুরে নিজের পাঁঠা ছাগল গোসল করাতে গেলে প্রতিবেশী জাহের মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রবি ও তার স্ত্রী রেশমা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে বাকির মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা ওয়াহাব প্রামাণিক বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় রবি ও তার স্ত্রীসহ ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও রেশমাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মারধরের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও গ্রামের সাধারণ কিছু মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামের অনেক বাড়ি।
অভিযুক্ত জাকির ও মতিনের ভাই আলহাজ্ব লুৎফর রহমান হাসু বলেন, এজাহারে জাকির, মতিন, মাহমুদ, উজ্জ্বল, আওয়াল ও মোস্তব সরাসরি মারধরে অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযুক্তদের মধ্যে মাহমুদ আলী কুয়েতপ্রবাসী; তিনি ১৫ দিন আগে দেশে ফিরে রংপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া জাকির চাটমোহরে কর্মস্থলে, মতিন পার্শ্বডাঙ্গা বাজারে নিজের দোকানে এবং অন্যরা মাঠে পাটের কাজে ছিলেন।
কামরুল হাসান বর্ষণ নামের এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার সময় বাকির আত্মীয় দেলোয়ার উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে অন্যায়ভাবে নিরীহ মানুষদের আসামি করার বিরোধিতা করায় তাকেও আসামি করা হয়েছে। বাদী ওয়াহাব প্রামাণিক ২৫ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন এবং ঘটনার দিন গ্রামে ছিলেন না।
অভিযুক্ত উজ্জ্বলের বিষয়ে স্থানীয় কৃষক শফি উদ্দিন প্রামাণিক জানান, ঘটনার দিন উজ্জ্বল তার সঙ্গে মাঠে পাট ছিলে নেওয়ার কাজ করছিল। প্রবাসী মাহমুদ আলীর স্ত্রী ছুম্মা খাতুন জানান, তারা তখন নীলফামারীতে ছেলের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন; সেখান থেকেই শুনতে পান তার স্বামীকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী ওয়াহাব প্রামাণিক ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, আসামিরা মারার হুকুম দিয়েছিল বলেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কোনো নিরীহ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হবে না।
kalprakash.com/IM