সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | দুপুর ৩:৩১:২১
শিরোনাম
আসিফ মাহমুদ আওয়ামী ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছেন: রাশেদ খান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সচেতনতা জরুরি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জ্বালানি নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে: মাহদী আমিন নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের হরমুজ প্রণালী নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত করল ওমান ও ইরান রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৭ ইন্দোনেশিয়ায় উত্তাল সমুদ্রে ফেরিডুবি: ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও কমল স্বর্ণের দর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক আসিফ মাহমুদ আওয়ামী ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছেন: রাশেদ খান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সচেতনতা জরুরি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জ্বালানি নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে: মাহদী আমিন নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের হরমুজ প্রণালী নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক স্থগিত করল ওমান ও ইরান রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৭ ইন্দোনেশিয়ায় উত্তাল সমুদ্রে ফেরিডুবি: ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও কমল স্বর্ণের দর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক

অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বছরে ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২
শেয়ার: mail
অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বছরে ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার এখন আর কেবল তরুণদের নিছক বিনোদন কিংবা বিচ্ছিন্ন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছেন। ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) চ্যানেলের মাধ্যমে এই জুয়ায় বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)-এর এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়, দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ অনলাইন জুয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে মাত্র এক থেকে দেড় বছরের ব্যবধানে অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

জিইডির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রতি বছর ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে। অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব লেনদেন চলছে। জুয়ার অর্থ স্থানান্তরে প্রত্যক্ষ সহায়তা করছে এমন এক হাজারের বেশি এজেন্টের উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে।

এই আর্থিক ঝুঁকির ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনলাইন বেটিং, জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা ডেবিট এবং ১ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা ক্রেডিট লেনদেন হয়েছে।

বিএফআইইউ জানায়, সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছেন নিয়মিত বেতনভোগী পেশাজীবীরা। তাদের ব্যাংক হিসাবে ৬৪১ কোটি টাকা ডেবিট এবং ৬৪২ কোটি টাকা ক্রেডিট হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গৃহিণীদের হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩৭১ কোটি টাকা ডেবিট ও ৩৪৭ কোটি টাকা ক্রেডিট। এছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাতে যুক্ত ব্যক্তিদের হিসাবে ২৩১ কোটি টাকা ডেবিট ও ২৩২ কোটি টাকা ক্রেডিট এবং শিক্ষার্থীদের হিসাবেও ১৯৪ কোটি টাকা ডেবিট ও ১৭৫ কোটি টাকা ক্রেডিট লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে গৃহিণী, কৃষক ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এসব সর্বনাশা কর্মকাণ্ডে খোয়াচ্ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষও এতে যুক্ত হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়।

তবে অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর আড়ালে গড়ে উঠছে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ চক্র। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের একটি বড় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট গড়ে উঠেছে। প্রতারণার মাধ্যমে এমএফএসে আসা অর্থ স্থানীয় এজেন্টদের সহযোগিতায় দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে সরকারি নজরদারি থাকলেও এই শ্যাডো ইকোনমি বা সমান্তরাল অর্থনীতি বিদেশি চক্রের জন্য অর্থ পাচারের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন ইউনিটের তথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে জুয়া ও প্রতারণা চক্রের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের খুলশীতে একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের ৬২ নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭০টির বেশি ল্যাপটপ ও মুঠোফোনসহ উন্নত প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এর আগে কক্সবাজারের কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান নেওয়া প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন সন্দেহভাজন চীনা নাগরিকের একটি চক্র শনাক্ত করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ সরঞ্জাম। পুলিশ ধারণা করছে, তারা অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল ক্যাসিনো, ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

এছাড়া ঢাকার উত্তরা ও তুরাগে পরিচালিত এক অভিযানে ছয় চীনা নাগরিকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্টের জিএসএম/জিপিআরএস সিম-মডিউল মেশিন, একটি আট-পোর্ট ও একটি ২৫৬-পোর্টের মেশিন, ২৮০টি সিমকার্ড ও ২০টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এর মাধ্যমে শত শত সিম একসঙ্গে সক্রিয় রেখে জুয়ার লেনদেন ও প্রতারণা চালানো হচ্ছিল। একইভাবে ভাটারা এলাকা থেকেও ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড ও ২০টি গেটওয়ে ডিভাইসসহ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরও (ইউএনওডিসি) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় সীমিত ব্যয়ে অনলাইন ক্যাসিনো বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আন্তর্জাতিক এসব সাইবার অপরাধী চক্রের অপতৎপরতা রুখতে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের আইনের আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: বছরে ১০০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন

বিস্তারিত কমেন্টে