১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে তাঁকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি অবতরণ করে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
২০১৯ সালের পর এটি শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে প্রাণঘাতী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে দুই বৈরি প্রতিবেশীর মধ্যে যে গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমন ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ভারতের মাটিতে পৌঁছানো চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালক ছাই ছি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, ভিসা কার্যক্রম এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। তবে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন-ভারত সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্রদীপ তানেজা মনে করেন, প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ হিমালয় সীমান্তে বিপুল সেনা উপস্থিতি বজায় রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে শি জিনপিংয়ের সফরের বিরোধিতা করে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তিব্বতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ ১১টি সদস্য দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে। এর আগে শুক্রবার সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও জ্বালানি অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে ভারত। একই দিনে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের বর্তমান সংকট তুলে ধরেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে ভারতকে অত্যন্ত সতর্ক কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে হচ্ছে।
এবারের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যস্ত থাকায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা।
ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভি. পান্তের মতে, ব্রিকসের সদস্য বৃদ্ধি পেলেও মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে দেশগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য এবারের সম্মেলনে স্পষ্ট বিভাজনরেখা তৈরি করতে পারে, যা ঐক্যবদ্ধ যৌথ বিবৃতি প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
kalprakash.com/IM