ইতালিতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থাকা এবং সাধারণ নাগরিক হওয়ার কারণেই বাঁধন এমন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁধনের ওপর হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন দীপ্তি চৌধুরী। ছবির ক্যাপশনে তিনি অভিনেত্রীর ওপর আক্রমণের কারণ হিসেবে চারটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট তুলে ধরেন।
দীপ্তি চৌধুরী লেখেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের অপরাধ—১. একটি গণঅভ্যুত্থানে তার একটি স্ট্যান্ড পয়েন্ট ছিল, যা ছবির লোকগুলোসহ আরও হাজার হাজার মানুষের আদর্শের সঙ্গে মেলেনি। ২. বাঁধন রাষ্ট্র কর্তৃক শিশু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে ছিল, প্রোফাইল লাল করেছিল। ৩. বাঁধন কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নেই। ৪. বাঁধন নারী; তাই সে সবচেয়ে সহজ টার্গেট।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই স্ট্যাটাসে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারে থাকা প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীদের প্রত্যেকেই ‘জুলাই যোদ্ধা’। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়হীন সাধারণ নাগরিকদের শুনতে হচ্ছে ‘জুলাই জঙ্গি’ গালি। আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষকে বড় সমর্থন হিসেবে বাহবা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সহযোদ্ধা হিসেবে তাঁদের নিরাপদ রাখা বা আগলে রাখা হয় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব ও অংশীদারত্ব দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপ্তি চৌধুরী আরও লেখেন, ‘দেখার অপেক্ষায় আছি জুলাইয়ের অংশীদারিত্ব নিয়ে টানাটানি করা রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়।’
উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ৮৩তম আসরে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে তিনি ইতালি সফরে যান।
বর্তমানে তিনি দেশটির মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে হাঁটতে গেলে এ হামলার শিকার হন তিনি। বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এ পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা নিজেদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ বলে পরিচয় দেয়।
kalprakash.com/IM