রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাঁচজন মাদক কারবারি ও দুইজন মাদকসেবীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনা এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সেতু চাকমা (৪০), মো. আরমান (২৩) ও তরপন চাকমার (৫০) হেফাজত থেকে ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া আরাফাত ইসলাম তারেক (২৯) ও সাইফুল ইসলামকে (৩১) মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং মো. কামাল উদ্দিন (৪১) ও মো. নুর মিয়াকে (৪৪) মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত রাঙামাটি গড়তে মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একটি মাদকমুক্ত রাঙামাটি গড়তে তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM