ডায়াবেটিস মানেই কেবল বড়দের রোগ—এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। শিশুদেরও ডায়াবেটিস হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে খুব অল্প বয়সেই এ রোগ ধরা পড়ে। তবে শুরুতে লক্ষণগুলো সাধারণ মনে হওয়ায় অনেক অভিভাবক তা সহজে বুঝতে পারেন না। ফলে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। শিশুর আচরণ ও শারীরিক কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে তাই শুরুতেই সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে মূলত জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা টাইপ-১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেলে শরীরে কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়। সময়মতো সেগুলো চিহ্নিত করতে পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শিশুর যে ৫টি লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন :
১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া : শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিবার প্রস্রাব করছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। হঠাৎ করে শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ ও পুনরাবৃত্তি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
২. অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও বারবার পানি পান : শিশু যদি বারবার পানি পান করতে চায়, স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত পানি পান করে কিংবা পানি খাওয়ার পরও তৃষ্ণা না মেটে—তবে তা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও অবসাদ : খেলাধুলা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা সারাক্ষণ অবসন্ন থাকা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। শরীর যখন খাবার থেকে পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না, তখন এ ধরনের দুর্বলতা দেখা দেয়।
৪. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া : খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন রুটিনে কোনো পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও শিশুর ওজন অপ্রত্যাশিতভাবে হ্রাস পেতে থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
৫. বয়স বাড়ার পরও বিছানায় প্রস্রাব : ছোট শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। তবে ১০-১২ বছর বয়সের পরও যদি কোনো শিশু নিয়মিত বিছানায় প্রস্রাব করে—বিশেষ করে আগে এমন অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ নতুন করে শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কেন বাড়ছে? ডায়াবেটিসের পেছনে বংশগত বা জেনেটিক কারণ যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনি বর্তমান জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক শিশুই দীর্ঘ সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। ফলে শারীরিক খেলাধুলা ও কায়িক পরিশ্রমের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুডের প্রতি বাড়তি আসক্তি। এসব অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস শিশুর সামগ্রিক মেটাবলিজমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অভিভাবকদের করণীয় : শিশুকে ছোট থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা জরুরি। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের বদলে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, উল্লিখিত লক্ষণগুলোর একাধিকটি প্রকাশ পেলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন শিশু বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
kalprakash.com/IM