সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৯:০৯:০১

থাইরয়েড কী: সমস্যা, কারণ, লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৭
শেয়ার: mail
থাইরয়েড কী: সমস্যা, কারণ, লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

থাইরয়েড মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত নানা স্বাস্থ্য সমস্যা বর্তমান সময়ে বেশ পরিচিত। থাইরয়েডের গঠন, এর কার্যক্রম, বিভিন্ন সমস্যা ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. থাইরয়েড কী ও কীভাবে কাজ করে? থাইরয়েড হলো গলার সামনের অংশে অবস্থিত প্রজাপতির মতো দেখতে একটি ছোট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Gland)। এই গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড হরমোন (টি-থ্রি ও টি-ফোর) নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া (Metabolism), শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ না করলে প্রধানত দুই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়:

  • হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থি যখন পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন বিপাকপ্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ে।

  • হাইপারথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থি যখন অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন তৈরি করে, তখন শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়।

২. থাইরয়েড সমস্যা কেন হয়? থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য ঘটার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে:

  • অটোইমিউন রোগ: শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। যেমন—হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ‘হাশিমোটোস থাইরয়েডাইটিস’ এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য ‘গ্রেভস ডিজিজ’ দায়ী।

  • আয়োডিনের ঘাটতি: শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে গ্রন্থিটি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড (Goiter) রোগ দেখা দিতে পারে।

  • বংশগত কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়দের থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • গর্ভাবস্থা: গর্ভকালীন বা সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর শরীরে হরমোনের তারতম্যের কারণে থাইরয়েড জটিলতা দেখা দিতে পারে।

  • মানসিক চাপ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও হরমোন নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা থাইরয়েডের সমস্যা একবার দেখা দিলে সাধারণত সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা সারাজীবন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এর মূল প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো হলো:

  • নিয়মিত ওষুধ সেবন: হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন (যেমন—লেভোথাইরক্সিন) গ্রহণ করতে হয়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে হরমোন কমানোর ওষুধ কিংবা প্রয়োজনে রেডিওআয়োডিন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

  • সুষম ও আয়োডিনযুক্ত খাদ্যগ্রহণ: প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন (আয়োডিনযুক্ত লবণ) থাকা জরুরি। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, শাকসবজি ও তাজা ফলমূল নিয়মিত খাওয়া উচিত।

  • খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা: হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্তদের জন্য বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াবিন জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো; কারণ এগুলো থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে।

  • নিয়মিত পরীক্ষা (TSH Test): চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার (যেমন—TSH, Free T3, Free T4) মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সহায়ক।

সতর্কতা: হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া কিংবা অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা লাগার মতো থাইরয়েডের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

থাইরয়েড কী: সমস্যা, কারণ, লক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

বিস্তারিত কমেন্টে