সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ১১:০১:১১

পেঁপে পুষ্টিকর হলেও কাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৮
শেয়ার: mail
পেঁপে পুষ্টিকর হলেও কাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? জেনে নিন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পেঁপে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, খাদ্য আঁশ বা ফাইবারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পেঁপেতে থাকা ‘প্যাপেইন’ নামের শক্তিশালী এনজাইম হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। চোখের সুরক্ষাতেও এর জুড়ি নেই। তবে এত পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও সবার জন্য পেঁপে সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের নির্দিষ্ট অ্যালার্জি, হজমের জটিলতা কিংবা বিশেষ কিছু ওষুধ সেবনের ইতিহাস রয়েছে, তাদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারা পেঁপে পরিহার করবেন বা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপেতে সতর্কতা: গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কাঁচা পেঁপেতে ‘ল্যাটেক্স’ ও প্যাপেইনের মাত্রা বেশি থাকে, যা জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে দিয়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি বা প্রসবের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে পাকা পেঁপেতে কাঁচা পেঁপের মতো এ ধরনের ক্ষতিকর প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবুও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে গর্ভবতী নারীদের পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

২. ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে: যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, পেঁপে খেলে তাদের মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে ‘ল্যাটেক্স-ফ্রুট সিনড্রোম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ক্রস-রিঅ্যাকশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে পেঁপে খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমনটি হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩. রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে: যারা নিয়মিত অ্যান্টিকোঅ্যাগুল্যান্ট বা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধী (রক্ত পাতলা করার) ওষুধ খান, তাদের পেঁপে বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া দরকার। খাবার ও ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনা ঠিক নয়।

৪. ডায়রিয়া বা পেটের গোলমাল চলাকালে: পেঁপেতে থাকা ফাইবার স্বাভাবিক অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর ও হজমে সহায়তা করলেও পেটের গোলমাল বা ডায়রিয়ার সময় অতিরিক্ত পেঁপে খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ সময় পেঁপে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫. রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে: গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করেন এবং যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) প্রবণতা রয়েছে, তাদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পেঁপে কি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে? সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পেঁপে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর উপাদান। তবে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে বর্জন, ল্যাটেক্স অ্যালার্জি কিংবা জটিল শারীরিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

পেঁপে পুষ্টিকর হলেও কাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? জেনে নিন

বিস্তারিত কমেন্টে