মানবদেহের সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্ক। মানুষের চিন্তা, স্মৃতি, মনোযোগ থেকে শুরু করে সার্বিক শরীরের সমস্ত কার্যক্রমে এর নিয়ন্ত্রণ অপরিসীম। তাই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে মনোযোগ হ্রাস, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মানসিক ক্লান্তি বা ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউরোসার্জন ডা. রাহুল চাওলা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে আবশ্যক কয়েকটি পুষ্টি উপাদান ও এর প্রাকৃতিক উৎস সম্পর্কে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন।
ভিটামিন বি১২:
মস্তিষ্ক ও পুরো স্নায়ুতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। এটি স্নায়ুকোষের সুরক্ষা স্তর (মায়েলিন) বজায় রাখে। এর ঘাটতিতে স্নায়ুবিক ভারসাম্যহীনতা ও স্মৃতিভ্রম হতে পারে। মাংস, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর বি১২ পাওয়া যায়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড:
মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও সংকেত আদান-প্রদানে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষত ডিএইচএ) প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ এর অন্যতম উৎস। নিরামিষভোজীরা তিসি বীজ, চিয়া বীজ ও আখরোট থেকে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ পেতে পারেন।
আয়রন:
মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখতে আয়রন জরুরি। আয়রনের ঘাটতি হলে শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি এবং রাতে পায়ে অস্বস্তি অনুভূত হওয়ার মতো রোগ দেখা দিতে পারে। লাল মাংস, মাছ, ডাল, রাজমা ও পালং শাক আয়রনের প্রধান উৎস।
ফলিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে ফলিক অ্যাসিড। ডাল, মেথি, সাইট্রাসজাতীয় ফল ও ডিমে এটি বিদ্যমান। এছাড়া বেরি জাতীয় ফল, সবুজ শাকসবজি ও ডার্ক চকলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে বয়সের ছাপ ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
কোলিন ও ম্যাগনেশিয়াম:
মস্তিষ্কের সুস্থতায় কোলিন, প্রোটিন ও ম্যাগনেশিয়ামও বেশ কার্যকরী। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় শাকসবজি, ডিম, বাদাম ও প্রোটিন রাখা উচিত।
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে সতর্কতা:
অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই উচ্চমাত্রার ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা ছাড়া ইচ্ছেমতো সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে সুষম প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।