শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৩ সফর, ১৪৪৮ | রাত ২:২০:৩৭

বেপরোয়া জবি ছাত্রদল নেতা সুমন সর্দার: সাংবাদিককে মারধর, সাংবাদিক সংগঠন দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০১
শেয়ার: mail
বেপরোয়া জবি ছাত্রদল নেতা সুমন সর্দার: সাংবাদিককে মারধর, সাংবাদিক সংগঠন দখলের চেষ্টা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সংগঠনে হস্তক্ষেপ, নিজের অনুসারীদের মাধ্যমে নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবর-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েস হামলার শিকার হন।

কায়েসের অভিযোগ, সুমন সর্দার তাঁকে ডেকে নেওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি প্রমাণ রয়েছে।

এর আগে সুমন সর্দারের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। সংগঠনটির দাবি, জবিরিইউর কার্যকর কমিটি থাকা সত্ত্বেও নিজের অনুসারী এক ছাত্রদল নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে পৃথক কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সদস্যদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিক সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একই ছাত্রদল নেতার নাম বারবার সামনে আসায় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতা যদি একদিকে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর নাম আসে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ বিষয়ে সুমন সর্দারের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি কেন এ ধরনের কাজ করেছেন? একটি রাজনৈতিক দল কি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারে? কিংবা আপনাকে কি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে?”

জবাবে তিনি বলেন, “আসলে বিষয়টা তা নয়। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, তোমরা আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডারবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরকে নিয়ে কীভাবে কী করা যায়, দেখো। তখন আমরা বিষয়টিতে যুক্ত হই। তবে ছাত্রদলের যে নেতা এই কমিটিতে আছে এবং অন্যরা আছে, তারা সবাই আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।”

অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে তাঁকে আবার ফোন করা হলে তিনি অভিযোগকারীদের ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “আপনি কি হুমকি দিচ্ছেন?”

জবাবে তিনি বলেন, “না, না। তেমন না। বাদ দাও। আমি বসব।”

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward