মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৪:৪৯:৩৮

কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, ‘প্রতিহত করার’ হুঁশিয়ারি ছাত্রসংগঠনগুলোর

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৫
শেয়ার: mail
কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, ‘প্রতিহত করার’ হুঁশিয়ারি ছাত্রসংগঠনগুলোর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিগত দিনের বিচারহীনতা ও শিথিলতার কারণেই আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রনেতারা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুবি শাখার নতুন কমিটির তথ্য সামনে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমিনুর বিশ্বাসকে সভাপতি এবং একই সেশনের পার্থ সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ২ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় ও আত্মগোপনে রয়েছে ছাত্রলীগ। তবে হঠাৎ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মূল্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে প্রতিহত করার রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কুবি শাখার সংগঠক মারুফ শেখ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে চিরতরে ঘৃণিত একটি গোষ্ঠী। এই ঘৃণার রাজনীতি জিইয়ে রাখতেই তাঁরা কাল্পনিক কমিটি ঘোষণা করেছে। আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় এ কমিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। কুবি প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাঁদের মৌলিক অধিকার ও শিক্ষার স্বস্তিকর পরিবেশ নিশ্চিত করবে—এটিই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।”

জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক ও কুবি শাখার সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রলীগ একটি আইনিভাবে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যতদিন এই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে, কোনো নিষিদ্ধ বা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কুবির মাটিতে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। যেভাবে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেভাবেই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে মোকাবিলা করব।”

কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুবির নব্য সভাপতি আমিনুর বিশ্বাসদের সরাসরি অংশগ্রহণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। অথচ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিল করা হলেও কুবি প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনিক ব্যর্থতার সুযোগেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের অপকর্মের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।”

কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের নামকাওয়াস্তে এই কমিটিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সকল ছাত্রসংগঠন প্রত্যাখান করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে নাম আসা পদধারীদের কেউই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কিংবা আশেপাশে অবস্থান করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে না। কেবল বিশৃঙ্খলা উসকে দিতেই সন্ত্রাসী লীগের এই অপচেষ্টা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যে ছাত্রলীগের হাতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্ত লেগে আছে, তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। কুবি শাখা ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সর্বদা ক্যাম্পাসের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর রয়েছে।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward