বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ | ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২০ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৫:৫১:৫৫

জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার: ক্যাম্পাসে উদ্বেগ, স্পেস দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে ছাত্র সংগঠনগুলো

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫
শেয়ার: mail
জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টার: ক্যাম্পাসে উদ্বেগ, স্পেস দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে ছাত্র সংগঠনগুলো

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। রাতের আঁধারে সাঁটানো এসব পোস্টারকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কথিত প্রহসনের বিচার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি এমন তৎপরতা চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে, কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা, প্রান্তিক গেট এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বিশমাইল গেট এলাকার যাত্রীছাউনিসহ বেশ কয়েকটি জনাকীর্ণ স্থানে এসব পোস্টার টাঙানো হয়েছে।

পোস্টারগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার নাম উল্লেখ করে লেখা রয়েছে, গোপালগঞ্জ গণহত্যার ১ বছর পূর্তি, এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ওপর গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রহসনের রায় অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতার নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে পোস্টার সাঁটানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও ক্যাম্পাসের ভেতরে এতগুলো স্থানে কীভাবে পোস্টার লাগানো হলো? আমরা মনে করেছিলাম ক্যাম্পাস এখন নিরাপদ, কিন্তু এই ঘটনা আমাদের আবারও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই তৎপরতার পেছনে প্রশাসনের গাফিলতি এবং ফ্যাসিস্টদের দোসরদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

জাবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। আমরা দেখেছি ছাত্রলীগ কীভাবে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তারা শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তাই তাদের প্রতিরোধে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর।

প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসররা বসে আছে। তারাই ছাত্রলীগকে তথ্য দিচ্ছে। ফলে তারা রাতের আঁধারে এ ধরনের তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

একই প্রসঙ্গে জাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ও জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নারী হেনস্তার চেষ্টাসহ বিভিন্ন উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানানোর পরও স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা থেকে প্রান্তিক ও বিশমাইল এলাকা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর সংস্কারেও প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের দোসররা ঘাপটি মেরে থাকায় ছাত্রলীগ বাধাহীনভাবে ক্যাম্পাসে তৎপরতা চালাতে পারছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা ও পূর্ববর্তী নমনীয় সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রশক্তি।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, সারা দেশে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রশ্নই আসে না। এর মধ্যেও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা কথিত প্রহসনের বিচারের কারণেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমন সাহস পাচ্ছে। হামলাকারী ছাত্রলীগ এবং হামলায় মদদদাতা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নামমাত্র বিচার হওয়ায় তারা আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, কিছুদিন আগেও ডেইরি গেটে ছাত্রলীগ মানববন্ধন করেছে। তখন প্রশাসনকে মামলা করার আহ্বান জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে নতুন করে পোস্টার লাগানোর সুযোগ পেয়েছে ছাত্রলীগ। প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সিন্ডিকেটে ছাত্রলীগের ১৬ হামলাকারীকে দায়মুক্তি দেওয়ার কারণেই এসব ঘটনা বারবার ঘটছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ছাত্রলীগ ঘাঁটি গেড়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা দপ্তরে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, পোস্টারগুলো নজরে আসার পরই সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হবে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward