ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) কাজের সুবাদে পরিচয়। এরপর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের পরিণতিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কিশোরগঞ্জের সর্ণা আক্তার ও ঠাকুরগাঁওয়ের মুন্না ইসলাম। তবে সেই দাম্পত্য জীবন এখন ভেঙে পড়ার মুখে। স্বামীর বিরুদ্ধে অন্যত্র বিয়ে করার অভিযোগ এনে তাকে খুঁজে না পাওয়ার দাবি করেছেন সর্ণা। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্ণা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার চানপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার কর্ণফুলী গ্রামের সাদেকুল ইসলামের ছেলে মুন্না ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি মুন্না ইসলাম তাকে রেখে গোপনে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে ফিরছেন না এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না। স্বামী অনুপস্থিত থাকার সুযোগে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সর্ণা।
সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে সর্ণা আক্তারকে কান্নাজড়িত অবস্থায় অভিযোগ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তাকে ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সর্ণা আক্তার বলেন, “আমি কোনো টাকা-পয়সা বা বিচ্ছেদ চাই না। সাড়ে তিন বছরের সংসার ফেলে ও (মুন্না) অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমি শুধু আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই।“
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুন্না ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 
























