বাগেরহাটে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাত হাজারের বেশি মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির চাপে ঘেরের পাড় ভেঙে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে চলে যাওয়ায় হাজারো মৎস্যচাষি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার অন্তত সাত হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় চাষি ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে শত কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্যচাষিদের অভিযোগ, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করলেও আকস্মিক এ দুর্যোগে তাঁদের অধিকাংশই সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। ফকিরহাট উপজেলার চাষি কাজী মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘেরে হাঁটুসমান পানি উঠে যাওয়ায় জাল ও কচুরিপানা দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত মাছ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
মোল্লাহাটের একাধিক চাষি জানান, কয়েকটি বড় ঘের সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। একই অবস্থা চিতলমারীসহ জেলার অন্যান্য এলাকাতেও। অনেক চাষি এখন ঋণের কিস্তি ও ব্যাংকঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
ঘের তলিয়ে যাওয়ার সুযোগে স্থানীয় অনেক মানুষ খেওলা জাল নিয়ে ভেসে আসা মাছ ধরতে মাঠে নেমেছেন। এতে চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা, ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ এবং এনজিওর কিস্তি আদায় সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভবিষ্যতে ক্ষতি কমাতে ঘেরের পাড় আরও উঁচু ও মজবুত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন, সহজ শর্তে ঋণ এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা না হলে আগামী মৌসুমে জেলার মৎস্য উৎপাদন বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
kalprakash.com/IM
প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি 






















