শক্তিশালী টাইফুন বাভি চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশটির ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে ৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার স্থানীয় প্রশাসন এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া সৃষ্টি করে টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল অতিক্রম করে বর্তমানে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে এটি কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবুও এর সঙ্গে থাকা বিপুল জলীয় বাষ্পের কারণে ভারি বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বহাল রয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর ওয়েনঝো ও এর আশপাশের এলাকায় রোববার ভোরে টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ৫ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের আগে স্থানীয় বাজারগুলো বন্ধ হতে শুরু করায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেছেন ওয়েনঝোর বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা হুয়াং জিংহুয়ান জানান, তাদের পরিবারে দুই থেকে তিন দিনের পানির মজুত রাখা হয়েছে। তবে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত করার প্রয়োজন মনে করছেন না তারা।
অন্যদিকে, ওয়েনঝোর আরেক বাসিন্দা চেন কিউকিন বৃষ্টির মধ্যেই তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বাড়িতে ছুটে যান। তিনি জানান, বারান্দায় থাকা ফুলের টব নিরাপদে সরিয়ে রাখা এবং একা থাকা বাবা-মায়ের খোঁজ নিতেই তিনি সেখানে যাচ্ছেন।
এদিকে, টাইফুনটির প্রভাবে এখন পর্যন্ত জাপান ও তাইওয়ানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফিলিপাইনে বাভি ও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় তাইওয়ানের পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
kalprakash.com/IM
অনলাইন ডেস্ক 























