বাংলাদেশ ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে বিশাল ছাড় সৌদির

এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিমাণে কমিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। তবে বড় ধরনের মূল্যছাড় দেওয়ার পরও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় সৌদি তেল এখনও বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে না।

রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আগস্ট মাসের জন্য তাদের জনপ্রিয় ‘আরব লাইট’ ক্রুডের অফিসিয়াল বিক্রয় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে ১ দশমিক ৫০ ডলার কম। একই সঙ্গে আরও চার ধরনের তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার করে কমানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় এশিয়ার বাজারে তেল বিক্রির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান পুরোনো ক্রেতাদের কাছে আবার তেল বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতও বড় ছাড় দিয়ে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনে তেলের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা বিশ্ববাজারকে ক্রেতানির্ভর করে তুলেছে। ফলে উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

তেল ব্যবসায়ী ও শোধনাগার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সরবরাহের জন্য সৌদি তেলের দাম এখনও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের তেলের তুলনায় কয়েক ডলার বেশি। এর পেছনে পরিবহন ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের একটি শোধনাগারের কর্মকর্তা জানান, তারা বিকল্প উৎস থেকে আরও কম দামে তেল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই তুলনামূলক বেশি দামে সৌদি তেল কেনার আগ্রহ কমছে।

এক ব্যবসায়ী জানান, আবুধাবির আপার জাকুম ক্রুড ওমানের সোহার বন্দরে সরবরাহের ক্ষেত্রে দুবাই রেটের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ডলার কমে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদির রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল পরিবহনের খরচ তুলনামূলক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনই বড় ধরনের মূল্যযুদ্ধে যেতে চাইছে না। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম না কমালে এশিয়ার বাজারে সৌদি আরামকোর অংশীদারিত্ব চাপে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে বিশাল ছাড় সৌদির

প্রকাশিত: ০৭:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিমাণে কমিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। তবে বড় ধরনের মূল্যছাড় দেওয়ার পরও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় সৌদি তেল এখনও বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে না।

রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আগস্ট মাসের জন্য তাদের জনপ্রিয় ‘আরব লাইট’ ক্রুডের অফিসিয়াল বিক্রয় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে ১ দশমিক ৫০ ডলার কম। একই সঙ্গে আরও চার ধরনের তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার করে কমানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় এশিয়ার বাজারে তেল বিক্রির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান পুরোনো ক্রেতাদের কাছে আবার তেল বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতও বড় ছাড় দিয়ে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনে তেলের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা বিশ্ববাজারকে ক্রেতানির্ভর করে তুলেছে। ফলে উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

তেল ব্যবসায়ী ও শোধনাগার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সরবরাহের জন্য সৌদি তেলের দাম এখনও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের তেলের তুলনায় কয়েক ডলার বেশি। এর পেছনে পরিবহন ব্যয় ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের একটি শোধনাগারের কর্মকর্তা জানান, তারা বিকল্প উৎস থেকে আরও কম দামে তেল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই তুলনামূলক বেশি দামে সৌদি তেল কেনার আগ্রহ কমছে।

এক ব্যবসায়ী জানান, আবুধাবির আপার জাকুম ক্রুড ওমানের সোহার বন্দরে সরবরাহের ক্ষেত্রে দুবাই রেটের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ডলার কমে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদির রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল পরিবহনের খরচ তুলনামূলক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনই বড় ধরনের মূল্যযুদ্ধে যেতে চাইছে না। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম না কমালে এশিয়ার বাজারে সৌদি আরামকোর অংশীদারিত্ব চাপে পড়তে পারে।