কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) র্যাংকিং উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান, আইকিউএসি (IQAC)-এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. বেলাল উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক মশিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ায় ইরাসমাস+ ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস (ENFPs) নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সহায়তা কার্যক্রমের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. আশিকুর রহমান।
আলোচনায় ড. আশিকুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং কোনো প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রমের প্রতিফলন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত কর্মপরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকদের গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্ন সাফল্যের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সব অংশীজনের সম্মিলিত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এ সময় তিনি কিউএস (QS), টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE), সাংহাই র্যাংকিং এবং এসসিআইম্যাগো (SCImago)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ব্যবস্থার মূল্যায়ন সূচক তুলে ধরেন। পাশাপাশি এসব সূচকের আলোকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান মূল্যায়ন করে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন।
আলোচনা সভা শেষে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, “ড. আশিকুর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং ও উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবসম্মত করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় উপস্থিত থেকে গবেষণা পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা প্রকাশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এসব পরামর্শের ভিত্তিতে এক বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।”
বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি 























