কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পাঁচটি অনুষদে স্থায়ীভাবে পাঁচজন ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদন এবং দায়ের করা সিভিল পিটিশনের বিষয়ে আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে উপাচার্য এ নিয়োগ প্রদান করেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত ডিনরা হলেন— বিজ্ঞান অনুষদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার, কলা ও মানবিক অনুষদে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রকৌশল অনুষদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক।
অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম ও ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬-এর ধারা ২২, ডিন নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং ডিন নিয়োগ বিষয়ে রিট পিটিশন নং-৩০৪৫ অব ২০২০ ও পরবর্তীতে ‘সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু অ্যাপিল’ নং-৯৩৭ অব ২০২০-এর ওপর আইন উপদেষ্টার মতামত বিবেচনায় নিয়ে উপাচার্য ডিন নিয়োগের নির্দেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এবারের ডিন নিয়োগে বিভাগভিত্তিক পালাক্রম অনুসরণ করা হয়েছে। তবে অতীতে বিভিন্ন অনুষদে ডিন নিয়োগের ক্ষেত্রে পালাক্রমের ব্যত্যয় ঘটায়, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যে বিভাগ থেকে ব্যত্যয় ঘটেছিল, সেখান থেকেই এবার নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পালাক্রমে যে বিভাগের নাম এসেছে, সেই বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কেউ আগে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকলে বা কোনো আইনি জটিলতায় থাকলে, তার পরিবর্তে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি না হয়।
এর আগে গত ২০ মে জারি করা এক অফিস আদেশে আইন উপদেষ্টার মতামত না আসা পর্যন্ত পাঁচ অনুষদে ডিনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কলা ও মানবিক অনুষদে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম ডিনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নতুন ডিন নিয়োগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, “পূর্বে ডিন নিয়োগে একাধিকবার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, দায়ের করা পিটিশন, আইন উপদেষ্টার মতামত, কমিটির প্রতিবেদনসহ সবকিছু পর্যালোচনা করে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, নিয়োগপ্রাপ্ত ডিনরা নিয়োগের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি 























