জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৫ জুলাই) দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও একাডেমিক সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের দীর্ঘ পথচলা, একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে শিল্প-একাডেমিয়ার কার্যকর সংযোগ, আধুনিক বিপণন শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, কর্পোরেট ব্যক্তিত্বদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সুসংগঠিত করতে হবে। পাশাপাশি মার্কেটিং শিক্ষার সামাজিক গুরুত্ব, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় উদ্ভাবনী চিন্তার প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর। এ সময় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন মার্কেটিং বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল বিভাগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর নেতৃত্ব, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিনের একাডেমিক সেশনে ‘মার্কেটিংয়ে শ্রেষ্ঠত্ব: বিপণনে একাডেমিক গবেষণা ও অনুশীলন’ শীর্ষক আলোচনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ের ভূমিকা এবং সমসাময়িক বিপণন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর অধীনে মার্কেটিং’ শীর্ষক সেশনে শিল্পখাতে আধুনিক মার্কেটিং কৌশল, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে মার্কেটিং শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ডেনমার্কের অ্যালবর্গ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. বখতিয়ার রানা, পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক ও কৃষাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. আবেদ চৌধুরী, পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশিদ, মেটলাইফ বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলাউদ্দিন এবং বিডিজবস ডটকমের হেড অব প্রোগ্রাম মো. আলী ফিরোজসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু একাডেমিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পরিবর্তিত বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। তাঁরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোক্তা আচরণ (কনজ্যুমার বিহেভিয়ার) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতির মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে রাখার পরামর্শ দেন।
জবি প্রতিনিধি 























