বাংলাদেশ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে এক তরুণকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও এটিকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম উর্মি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে রেহেনা বেগম ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লিখিত অভিযোগে রেহেনা বেগম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারানোর পর আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি সহায়তার আশায় ইউএনওর কার্যালয়ে যান। সেখানে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, পরে ধারদেনা করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দেওয়ার কথা ছিল।

রেহেনা বেগম বলেন, সোমবার সকালে ইউএনওর বদলির খবর পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইতে কার্যালয়ে যান। কিন্তু ইউএনও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাকে চেনেন না বলে জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানের শিকার হয়েছেন। তাকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখানো হয়েছে এবং তার ছোট ছেলেকে কিছু সময় আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। তার ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম অনেক আগেই বাতিল হয়েছে এবং অভিযোগকারী নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও জমা পড়েনি।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ০১:০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে এক তরুণকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও এটিকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম উর্মি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে রেহেনা বেগম ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লিখিত অভিযোগে রেহেনা বেগম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারানোর পর আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি সহায়তার আশায় ইউএনওর কার্যালয়ে যান। সেখানে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, পরে ধারদেনা করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দেওয়ার কথা ছিল।

রেহেনা বেগম বলেন, সোমবার সকালে ইউএনওর বদলির খবর পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইতে কার্যালয়ে যান। কিন্তু ইউএনও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাকে চেনেন না বলে জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানের শিকার হয়েছেন। তাকে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখানো হয়েছে এবং তার ছোট ছেলেকে কিছু সময় আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। তার ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম অনেক আগেই বাতিল হয়েছে এবং অভিযোগকারী নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও জমা পড়েনি।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ