জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় প্রথম ধাপের খাল খননের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে উপজেলার তৈমাতাই ও পিলাক খাল মিলিয়ে মোট ১৩ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ।
তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল গুইমারা উপজেলার তৈমাতাই ও পিলাক খালের খননকাজ শুরু হয়। পরে ২০ মে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈমাতাই খালের ৪ দশমিক ১ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে পিলাক খালের ৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। ফলে দুই খাল মিলিয়ে মোট ১৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পে তৈমাতাই খালে ৩৫৭ জন এবং পিলাক খালে ৪১৬ জনসহ মোট ৭৭৩ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।
খালের দুই পাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে তৈমাতাই খালের পাশে ২ হাজার ৬৪১টি এবং পিলাক খালের পাশে ২ হাজার ৪৪০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৭০০ ফুট পাইপ ড্রেন নির্মাণ, তৈমাতাই খালে ৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের দুটি ঘাট, পিলাক খালে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি ঘাট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ৪৫০ ফুট পিভিসি পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহ বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে সবুজ বনায়নের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি 
















