বাংলাদেশ ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, রাজনীতিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় বাসস্ট্যান্ডে মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এর প্রতিবাদে রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার লোকজন পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও রেললাইনের পাথর ব্যবহার করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটান।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন ভর্তি রয়েছেন এবং তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল ও যুগান্তরের স্থানীয় তিন সাংবাদিকও রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০

প্রকাশিত: ০৭:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, রাজনীতিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় বাসস্ট্যান্ডে মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এর প্রতিবাদে রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার লোকজন পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও রেললাইনের পাথর ব্যবহার করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটান।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন ভর্তি রয়েছেন এবং তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু, ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান, তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, সমকাল ও যুগান্তরের স্থানীয় তিন সাংবাদিকও রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬০