পবিত্র ১০ মহররম (আশুরা) উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা গ্রামে বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল, জারি ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় শোকপালনকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাজুড়ে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চাপরতলা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন সহকারী বিট অফিসার জামাল। তিনি বলেন,
“আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। আমরা সবসময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ দায়িত্ব পালন করে যাব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাপরতলা ইউনিয়ন যুব সেনার সভাপতি মো. রাকিব মিয়া। তিনি বলেন,
“কারবালা ইসলামের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ যুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের স্মরণে আমরা রোজা রেখেছি এবং মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেছি। এখানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি।”
ঐতিহাসিকভাবে আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করেন। এ ঘটনাকে স্মরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে শিয়া মুসলিমদের মধ্যে, তাজিয়া মিছিল, জারি ও বিভিন্ন শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 


















