বাংলাদেশ ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

স্বাস্থ্যসেবা সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র ‘ব্যথার দান’। নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শারীরিক যন্ত্রণা লাঘব করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে কেন্দ্রটি এখন নিজেই যেন ‘অসুস্থ’। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তো দূরের কথা, ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্যারাসিটামল বা ওমিপ্রাজলের মতো কয়েকটি সাধারণ ওষুধ ছাড়া সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রায় পাওয়া যায় না।

মেডিকেল সেন্টারের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক সংকট ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান নাবিল সাদ বলেন, “মেডিকেল সেন্টারে গেলে মনে হয় কোনো হাসপাতালে নয়, বরং বিড়ম্বনার একটি কেন্দ্রে এসেছি। আমার পায়ের আঙুলের সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে যেখানে পাশে ইনজেকশন দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে নখের ভেতর দিয়ে দেওয়া হয়। পরে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এছাড়া যেকোনো সমস্যা নিয়ে গেলেই দুটি নাপা ধরিয়ে দেওয়া হয়, না হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর মেডিকেল সেন্টারে তালা ঝুলে যায়, শুক্র ও শনিবারও বন্ধ থাকে। তাহলে কি প্রশাসন মনে করে, ছুটির দিনে আমাদের অসুস্থ হওয়া নিষেধ?”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের অভিযোগ করছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের ভাষ্য, ‘ব্যথার দান’ নামের চিকিৎসাকেন্দ্রটি ব্যথা লাঘবের বদলে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির দিনে অসুস্থ হওয়া যেন নিষিদ্ধ।”

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কেন্দ্রটি কার্যত একটি রেফারেল সেন্টারে পরিণত হয়েছে। সামান্য শারীরিক সমস্যাতেও শিক্ষার্থীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ রাখার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এ বিষয়ে ‘ব্যথার দান’-এর অতিরিক্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, ওষুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কারণেই সপ্তাহের সাত দিন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ সম্পন্ন হলে নিয়মিত ডিউটি চালু করা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ‘ব্যথার দান’ নামটি শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল একটি নামসর্বস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবেই থেকে যাবে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবা সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

স্বাস্থ্যসেবা সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’

প্রকাশিত: ০৫:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র ‘ব্যথার দান’। নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শারীরিক যন্ত্রণা লাঘব করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে কেন্দ্রটি এখন নিজেই যেন ‘অসুস্থ’। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তো দূরের কথা, ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্যারাসিটামল বা ওমিপ্রাজলের মতো কয়েকটি সাধারণ ওষুধ ছাড়া সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রায় পাওয়া যায় না।

মেডিকেল সেন্টারের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক সংকট ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান নাবিল সাদ বলেন, “মেডিকেল সেন্টারে গেলে মনে হয় কোনো হাসপাতালে নয়, বরং বিড়ম্বনার একটি কেন্দ্রে এসেছি। আমার পায়ের আঙুলের সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে যেখানে পাশে ইনজেকশন দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে নখের ভেতর দিয়ে দেওয়া হয়। পরে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এছাড়া যেকোনো সমস্যা নিয়ে গেলেই দুটি নাপা ধরিয়ে দেওয়া হয়, না হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর মেডিকেল সেন্টারে তালা ঝুলে যায়, শুক্র ও শনিবারও বন্ধ থাকে। তাহলে কি প্রশাসন মনে করে, ছুটির দিনে আমাদের অসুস্থ হওয়া নিষেধ?”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের অভিযোগ করছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের ভাষ্য, ‘ব্যথার দান’ নামের চিকিৎসাকেন্দ্রটি ব্যথা লাঘবের বদলে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির দিনে অসুস্থ হওয়া যেন নিষিদ্ধ।”

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কেন্দ্রটি কার্যত একটি রেফারেল সেন্টারে পরিণত হয়েছে। সামান্য শারীরিক সমস্যাতেও শিক্ষার্থীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ রাখার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

এ বিষয়ে ‘ব্যথার দান’-এর অতিরিক্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, ওষুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কারণেই সপ্তাহের সাত দিন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ সম্পন্ন হলে নিয়মিত ডিউটি চালু করা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ‘ব্যথার দান’ নামটি শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল একটি নামসর্বস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবেই থেকে যাবে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবা সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’