চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধ, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো মামলার সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে দলীয় প্রতীক, ব্যানার বা স্লোগান ব্যবহার করা যাবে না।
ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ ১০ জেলায় নতুন রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গত ২১ জুন পর্যন্ত সরকারি গুদামে ২১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা নিরাপদ মজুতের তুলনায় প্রায় ৭ লাখ টন বেশি।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ‘ঢাকা ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন রিং নেটওয়ার্ক’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে।
সাইবার বুলিং ও নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ডেস্ক 
















