পাবনার চাটমোহর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জনকে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজা (৫২), গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আলাল (৫৫), আবুল বাশার নবীর চাঁদ (৩৫), হৃদয় হোসেন (২২), সোহান হোসেন (২৩), কেতাব আলী (৪৫) ও মিজানুর রহমান (৪০)। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাশ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি গুনাইগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলাল হোসেনের নেতৃত্বে চরপাড়া সাহেববাজার এলাকায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে স্থানীয়রা মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে আলালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন আশরাফুল। এ ঘটনায় আশরাফুলকে থানায় অভিযোগ দিতে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজার বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করে আলাল গ্রুপ।
শনিবার রাত ৯টার দিকে আবারও বিক্ষোভ মিছিল করে আলাল গ্রুপ। মিছিল থেকে বিএনপি নেতা ভিপি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলকারীরা সাহেববাজারে গেলে সেলিম রেজার উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের লোকজন চাপাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ সরে যায়।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি নেতা সেলিম রেজাসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে চাটমোহরে ফিরছিলেন। এ সময় আলাল পক্ষের লোকজন সেলিম রেজাসহ তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, “আলাল, হেলাল ও মুক্তার গং মাদকসেবীদের নিয়ে মাদকবিরোধী মিছিল বের করে আমার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। এলাকার লোকজন এতে বাধা দেয়। আমি উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমাকেও লাঞ্ছিত করেছে।”
গুনাইগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলাল হোসেনসহ অন্যরা জানান, সেলিম রেজা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দিয়েছেন। তার স্বজনরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে তার লোকজন ও এনজিওকর্মী জাইদুল চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও মারধর করেছে। আমরা দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনা প্রতিনিধি 
















