বাবা—মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ, নিরাপত্তা ও নিঃস্বার্থ আত্মদানের এক বিশাল জগৎ। পরিবারের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করতে একজন বাবা নীরবে নিজের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া ও আরাম-আয়েশ বিসর্জন দেন। তাই পৃথিবীর প্রতিটি সন্তানের জীবনেই বাবা এক অনন্য আশ্রয়ের নাম।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিবসটি উদযাপন করা হলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের মতে, বাবার অবদান কোনো নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাবাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম রিপন বলেন, “বাবা একটি ছোট শব্দ হলেও এর গভীরতা পৃথিবীর সব ভালোবাসার চেয়ে অনেক বেশি। জীবনের প্রথম হাঁটতে শেখা, কথা বলা এবং শিক্ষার হাতেখড়ি বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। তিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সবসময় আমাদের ভালো রাখার চেষ্টা করেছেন। একজন সন্তানের প্রতি বাবার অবদান কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমার বাবাকে সুস্থ, সুন্দর ও হাসিখুশি রাখেন।”
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “বাবা শুধু একটি শব্দ নয়, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ সম্পর্কের প্রতীক। বৃক্ষ যেমন ফল, ফুল ও ছায়া দিয়ে মানুষের উপকার করে, তেমনি একজন বাবাও সন্তানের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেন। অধিকাংশ বাবার একমাত্র চাওয়া থাকে, সন্তান যেন ভালো থাকে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আমরা অনেক সময় বাবার ত্যাগের মূল্য তখনই উপলব্ধি করি, যখন তাঁকে হারিয়ে ফেলি।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ডাবলু মিয়া বাবাকে ‘নিঃশব্দ বটবৃক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাবা পরিবারের সেই অদৃশ্য ছাদ, যিনি সব ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে পরিবারকে রক্ষা করেন। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ্য হলেও বাবার ভালোবাসা অনেক সময় নীরব থাকে। কঠোর শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর মমতা ও দায়িত্ববোধ। সন্তানের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে একজন বাবার অবদান অনস্বীকার্য।”
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মমিন মিয়া নিজের বাবার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমার বাবা একজন সাধারণ রিকশাচালক ছিলেন। অনেক কষ্টের মধ্যেও তিনি আমার পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি ঋণ নিয়েছেন, দিনমজুরি করেছেন এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরেছি শুধুমাত্র তাঁর ত্যাগ ও পরিশ্রমের কারণে। আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নায়ক আমার বাবা।”
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে পরিবার ও সমাজে বাবার অবদান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, অনুপ্রেরণার উৎস এবং জীবনের পথপ্রদর্শক। তাঁর পরামর্শ, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ একজন সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ব বাবা দিবসে বেরোবি শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রার্থনা করেছেন, যাঁদের বাবা জীবিত আছেন, তাঁরা যেন সুস্থ ও দীর্ঘায়ু হন এবং যাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁদের ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সাহস ও আশ্রয়ের নাম। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
বেরোবি প্রতিনিধি 


















