বাংলাদেশ ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন

পঞ্চগড়ের জগদল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের জগদল বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন সফল করতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে আনা হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখায় তাদের নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তবে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে নামানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন,
“উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তাঁর অনুমতি নিয়েই এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষকের এই দাবির সঙ্গে তীব্র ভিন্নমত পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন,
“মানববন্ধন আয়োজনের বিষয়ে আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলেন,
“এ ধরনের কোনো কর্মসূচির জন্য প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতিই নেননি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে থেকে অবগতও ছিলাম না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে ব্যবহার করার এই ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে মহাসড়কে দাঁড় করানো কতটা যৌক্তিক? স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

kalprakash.com/SAS

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০২:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ের জগদল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের জগদল বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন সফল করতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে আনা হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখায় তাদের নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তবে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে নামানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন,
“উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তাঁর অনুমতি নিয়েই এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষকের এই দাবির সঙ্গে তীব্র ভিন্নমত পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন,
“মানববন্ধন আয়োজনের বিষয়ে আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলেন,
“এ ধরনের কোনো কর্মসূচির জন্য প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতিই নেননি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে থেকে অবগতও ছিলাম না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে ব্যবহার করার এই ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে মহাসড়কে দাঁড় করানো কতটা যৌক্তিক? স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

kalprakash.com/SAS

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহাসড়কে মানববন্ধন