চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিষণ সীমান্তে আবারও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতেও সীমান্তের ভারতীয় অংশে কয়েকজন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য জড়ো করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের সতর্কতা এবং বিজিবির টহল তৎপরতা টের পেয়ে শেষ মুহূর্তে তাদের আবারও ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এর আগে গত ৪ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি ও রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় মোট ৪৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। প্রতিবারই স্থানীয়দের তথ্য ও সহযোগিতায় বিজিবির হস্তক্ষেপে ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
সীমান্তবর্তী এলাকায় নদী ও দুর্গম ভূ-প্রকৃতির কারণে এসব পুশইনের চেষ্টা বারবার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা ও বিজিবি সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নদীপথ ও স্থলপথে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাইনোকুলার, ড্রোন ক্যামেরা এবং নাইট ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত পাহারায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী রোকনপুর গ্রামের সাতজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে ১৩ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে প্রথমে তা ব্যর্থ হলেও পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটে বিএসএফ তাদের আবারও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
৪ জুন ভোররাতে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির হস্তক্ষেপে তারা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর আবারও ভারতে ফিরে যায় বলে জানা গেছে।
kalprakash.com/SAS
জাতীয় ডেস্ক 

















