বাংলাদেশ ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

নারী শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও জেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নে এক নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৪ জুন) সকালে রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারী বাগানবাড়ী কোনাপাড়া মসজিদসংলগ্ন কাঁচা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রোকসানা আক্তারকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উদ্ধার করে রুহিয়া থানা পুলিশ। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বিকেলে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে মো. তমিজ উদ্দিন (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকাকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার স্বামীকে জানালে তারা স্থানীয়ভাবে তমিজ উদ্দিনকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে তমিজ উদ্দিনের বাড়ির উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তার পথরোধ করে। এরপর তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে প্রধান অভিযুক্ত তার গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তলপেটে লাথি মারেন। একই সময় অপর এক অভিযুক্ত তার কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রোকসানা আক্তারের মেয়েকে নিয়ে একটি পারিবারিক ঘটনার কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। একজন নারী শিক্ষিকার ওপর এ ধরনের হামলার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

kalprakash.com/SAS

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
নারী শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

নারী শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলার নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নে এক নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৪ জুন) সকালে রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারী বাগানবাড়ী কোনাপাড়া মসজিদসংলগ্ন কাঁচা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রোকসানা আক্তারকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উদ্ধার করে রুহিয়া থানা পুলিশ। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বিকেলে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে মো. তমিজ উদ্দিন (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকাকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার স্বামীকে জানালে তারা স্থানীয়ভাবে তমিজ উদ্দিনকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে তমিজ উদ্দিনের বাড়ির উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তার পথরোধ করে। এরপর তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে প্রধান অভিযুক্ত তার গর্ভে থাকা তিন মাসের সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তলপেটে লাথি মারেন। একই সময় অপর এক অভিযুক্ত তার কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করা হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রোকসানা আক্তারের মেয়েকে নিয়ে একটি পারিবারিক ঘটনার কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। একজন নারী শিক্ষিকার ওপর এ ধরনের হামলার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

kalprakash.com/SAS

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
নারী শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ