জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে শান্তিতে অধিক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালন বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠা শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারের বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চার হাজারেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে মোতায়েন রয়েছেন। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই নিহত হয়েছেন ৫৯ জন শান্তিরক্ষী।
এবারের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে তারা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক সহায়তা তদারকি, নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে কাজ করছেন।
অতীত ও বর্তমানের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুতেরেস বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বিশ্ব কখনও ভুলবে না। তিনি বলেন, শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারও মৃত্যু কাম্য নয়।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম স্থিতিশীলতা ও আশা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষিত এবং সাশ্রয়ী উপায়। এজন্য টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
গুতেরেসের ভাষায়, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থন জানানো উচিত।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে গৃহীত উদ্যোগগুলো জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই অনুষ্ঠানে নিহত শান্তিরক্ষীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেওয়া হবে।
এছাড়া জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।
সূত্র: বাসস
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















