রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১:২৬:০৪

ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য কায়সার কামালের ইতিহাস বিকৃত ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:১৪
শেয়ার: mail
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য কায়সার কামালের ইতিহাস বিকৃত ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, তার বক্তব্য ইতিহাস বিকৃত, সংবিধানবিরোধী এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সোমবার (১৮ মে) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৫ মে এক বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশে আদিবাসীরা একসময় সমস্ত সম্পদের মালিক ছিল, পরে বাঙালিরা এসে ধীরে ধীরে তাদের জায়গায় বসবাস শুরু করে। পিসিসিপির দাবি, একজন দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির এমন বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক এবং ইতিহাস বিকৃতির শামিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী আদিবাসী বলতে কোনো অঞ্চলের আদি ও অকৃত্রিম ভূমিপুত্রকে বোঝায়। পিসিসিপির দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দেশ থেকে এসে বসতি স্থাপন করেছে।

সংগঠনটি দাবি করে, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী চাকমারা মিয়ানমারের চম্পকনগর থেকে ১৬৬০ সালে, তঞ্চঙ্গ্যারা আরাকান থেকে ১৮১৯ সালে এবং ত্রিপুরারা চীনের ইয়াংসি ও হোয়াংহো নদীর উপত্যকা থেকে এ অঞ্চলে আসে। এছাড়া বম ও মারমা জনগোষ্ঠীর আগমনের বিষয়েও তারা বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে।

পিসিসিপির নেতারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশনের আওতায় কোনো জনগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তারা ভূমি ও স্বায়ত্তশাসনসংক্রান্ত বিশেষ অধিকার দাবি করতে পারে। এ কারণে এ ধরনের স্বীকৃতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, তবে ইতিহাস বিকৃতি বা রাষ্ট্রের অখণ্ডতাবিরোধী কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।

এ সময় ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় পিসিসিপি। অন্যথায় পার্বত্য অঞ্চলে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেয় সংগঠনটি।

kalprakash.com/SAS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য কায়সার কামালের ইতিহাস বিকৃত ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে

বিস্তারিত কমেন্টে