কিভাবে নির্বাসিত ও অনিশ্চিত জীবনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়, কিভাবে নেপথ্যে থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির কাজে নিজেকে নিবেদিত রাখতে হয়— তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ডক্টর নয়ন বাংগালি।
গত ১৫ মে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রক্ষণশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান লিবার্টি ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তিনি।
নয়ন বাংগালি বলেন, শেখ হাসিনা তার উপর অত্যাচার করে, দেশছাড়া করে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি; বরং আরও শক্ত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা ছিল, এমনকি বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেও নির্বাচন করার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, এমপি-মন্ত্রী হওয়াই রাজনীতির শেষ গন্তব্য নয়।
তার ভাষায়, “দলবাজি আর মিছিলনির্ভর রাজনীতি দিয়ে সমাজ বদলাবে না। ঘরে ঘরে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে হবে, মানবিক মানুষ গড়তে হবে। আগামী ১০ বছর মানুষকে নেতার গাড়ির পেছনে দৌড় করিয়ে ব্যস্ত রাখার সময় নয়।”
বিশাল ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা সংস্কার, শিক্ষানীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষা আইন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তার গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নীতিমালা প্রণয়ন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি সুশিক্ষা, আর সেই শিক্ষাকে কার্যকর করতে প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা ও দক্ষ প্রশাসন।
ডক্টর নয়ন বাংগালি বলেন, “ডক্টরেট ডিগ্রি শুধু একাডেমিক অর্জন নয়; এটি একজন নির্বাসিত মানুষের চার বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।”
গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটররা।
রাজনীতির স্কুলের শিক্ষক নয়ন বাংগালি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালো রাজনীতি ও নেতৃত্ব তৈরির কাজেই মনোযোগী থাকতে চান।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 
















