বাংলাদেশ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মুসাফাহার সময় হাতে চুমা দেওয়ার ইসলামী বিধান

সংগৃহীত ছবি

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুসলমানরা সাক্ষাৎ হলে সালাম ও মুসাফাহার মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ ঘটায়। এটি ইসলামে সুন্নত হিসেবে স্বীকৃত একটি সুন্দর সামাজিক রীতি।

অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ আলেম-উলামা, শিক্ষক, পিতা-মাতা বা নেককার ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাদের হাতে চুমা দেন। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।

ইসলামে পিতা-মাতা, আলেম ও নেককার ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ রয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তাদের প্রতি বিনয় ও দয়ার আচরণ করতে। (সুরা ইসরা, আয়াত ২৪)

হাদিসে বর্ণিত আছে, কিছু অমুসলিম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত ও পায়ে চুম্বন করেছিলেন, যা সম্মান প্রদর্শনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। (তিরমিজি)

ফুকাহায়ে কেরামের মতে, যদি কোনো আলেম, পিতা-মাতা বা নেককার ব্যক্তির প্রতি দ্বীনি মর্যাদা, ভালোবাসা ও সম্মানের কারণে হাতে চুমা দেওয়া হয় এবং এতে কোনো অহংকার, স্বার্থ বা অতিরঞ্জন না থাকে, তাহলে তা মূলত বৈধ।

তবে এটি অভ্যাসে পরিণত করা, অতিরঞ্জিত ভক্তি প্রদর্শন বা লোক দেখানো উদ্দেশ্যে করা ঠিক নয়। একইভাবে শরিয়তের সীমারেখা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের সম্মান প্রদর্শনও নিষিদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতে চুমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আদব মানা জরুরি—এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না করা, কেবল যোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সীমিত রাখা এবং এতে কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ না রাখা।

সার্বিকভাবে ইসলাম এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্মান প্রদর্শন বৈধ হলেও তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রকৃত সম্মান একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর মানুষের প্রতি সম্মান হবে বিনয় ও শালীনতার মধ্য দিয়ে।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মুসাফাহার সময় হাতে চুমা দেওয়ার ইসলামী বিধান

প্রকাশিত: ০৬:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুসলমানরা সাক্ষাৎ হলে সালাম ও মুসাফাহার মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ ঘটায়। এটি ইসলামে সুন্নত হিসেবে স্বীকৃত একটি সুন্দর সামাজিক রীতি।

অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ আলেম-উলামা, শিক্ষক, পিতা-মাতা বা নেককার ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাদের হাতে চুমা দেন। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।

ইসলামে পিতা-মাতা, আলেম ও নেককার ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ রয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তাদের প্রতি বিনয় ও দয়ার আচরণ করতে। (সুরা ইসরা, আয়াত ২৪)

হাদিসে বর্ণিত আছে, কিছু অমুসলিম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত ও পায়ে চুম্বন করেছিলেন, যা সম্মান প্রদর্শনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। (তিরমিজি)

ফুকাহায়ে কেরামের মতে, যদি কোনো আলেম, পিতা-মাতা বা নেককার ব্যক্তির প্রতি দ্বীনি মর্যাদা, ভালোবাসা ও সম্মানের কারণে হাতে চুমা দেওয়া হয় এবং এতে কোনো অহংকার, স্বার্থ বা অতিরঞ্জন না থাকে, তাহলে তা মূলত বৈধ।

তবে এটি অভ্যাসে পরিণত করা, অতিরঞ্জিত ভক্তি প্রদর্শন বা লোক দেখানো উদ্দেশ্যে করা ঠিক নয়। একইভাবে শরিয়তের সীমারেখা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের সম্মান প্রদর্শনও নিষিদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতে চুমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আদব মানা জরুরি—এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না করা, কেবল যোগ্য ও সম্মানিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সীমিত রাখা এবং এতে কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ না রাখা।

সার্বিকভাবে ইসলাম এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্মান প্রদর্শন বৈধ হলেও তা অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রকৃত সম্মান একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর মানুষের প্রতি সম্মান হবে বিনয় ও শালীনতার মধ্য দিয়ে।

kalprakash.com/SS